যুক্তরাষ্ট্র ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো বহু বছরের দীর্ঘস্থায়ী এমন কোনো সংঘাতে জড়াবে না, যা বছরের পর বছর ধরে চলবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্টের একটিই সুস্পষ্ট লক্ষ্য, ইরান “কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে” তা নিশ্চিত করা।’
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন। আজ মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এব প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তিনি শুধু তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম তিন-চার বছর দেশকে ইরানি পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে চান না, তিনি নিশ্চিত করতে চান যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না পায়।’
তিনি উল্লেখ করেন, এর জন্য মূলত ইরানি শাসনের মানসিকতায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তবে এই প্রক্রিয়াটিকে কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ওয়াশিংটনের নেই বলে দাবি করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
তিনি আরও বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনোভাবেই এই দেশকে বহু বছরের যুদ্ধে জড়াতে দেবেন না… আমরা ইরাক ও আফগানিস্তানে যেসব সমস্যায় পড়েছিলাম, সেই পরিস্থিতিতে আর যাব না।’
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রকৃতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে জেডি ভ্যান্স বলেন, তেহরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কেবল বেসামরিক জ্বালানি সমৃদ্ধকরণের জন্য তৈরি করেছে বলে যে দাবি করছে, তা সঠিক নয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, এসব স্থাপনা মূলত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে।
এই কারণেই মার্কিন প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ হবে অত্যন্ত লক্ষ্যভেদী এবং এর উদ্দেশ্য হবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়া, কোনো জাতিকে বছরের পর বছর দখল করে রাখা নয়।
সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন অতীতের সামরিক ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং তারা কেবল নির্দিষ্ট কৌশলগত বিজয় অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

