
ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলে এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যার দাবি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি)। একই সঙ্গে তারা পাইলটের বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ এখনো পাইলটের মৃত্যু বা বিমানে থাকা অন্যদের ভাগ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
বৃহস্পতিবার হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে অবতরণের পর মার্কিন পাইলট নিকোলাস এফ. গোসেলিনকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছে টিপিএনপিবি। সংগঠনটির ভাষ্য, এরপর বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এক বিবৃতিতে টিপিএনপিবি জানায়, বেসামরিক বিমান ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, গোসেলিনকে হত্যার মাধ্যমে তারা সরকারকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়াহুকিমো অঞ্চলের বিমানবন্দরে একজন মার্কিন পাইলট পরিচালিত একটি বিমান আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে। তবে পাইলট এবং বিমানে থাকা সাত যাত্রীর কী হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানটি অবতরণের আগে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু অবতরণের পরপরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী পাইলট নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ বা হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ইন্দোনেশিয়ার যৌথ পুলিশ-সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইউসুফ সুতেজো বলেন, বিমানটি বিদ্রোহীদের হামলার শিকার হয়েছিল কি না এবং বিমানে থাকা অন্যদের কী হয়েছে, তা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবম দাবি করেছেন, আগে থেকেই তারা পাপুয়া অঞ্চলে সব ধরনের ফ্লাইট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কারণ, তাদের অভিযোগ অনুযায়ী বেসামরিক বিমানকে সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
সামবম বলেন, ‘আমাদের আল্টিমেটাম অমান্য করায় বিমানটিতে গুলি চালানো হয়েছে এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পাপুয়ায় ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্য বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে সহায়তা করলে যেকোনো বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’
তিনি আরও জানান, নিহত পাইলটের মরদেহ নিতে চাইলে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষকে কোনো সামরিক বা পুলিশ সদস্য ছাড়া ঘটনাস্থলে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি পাপুয়া সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে ইন্দোনেশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান।
১৯৬৯ সালে বিতর্কিত এক গণভোটের মাধ্যমে পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটিতে স্বাধীনতার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এর আগেও বিদেশি পাইলটদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে একই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে ১৯ মাস জিম্মি থাকার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের পাইলট ফিলিপ মেহরটেন্স মুক্তি পান। একই বছর বিদ্রোহীদের হামলায় নিউজিল্যান্ডের হেলিকপ্টার পাইলট গ্লেন ম্যালকম কনিং নিহত হন।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.