জেলা প্রতিনিধি মুন্সীগঞ্জ
৪ ডিসেম্বর ২০২৪,
আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রেমিকা শাহিদা ইসলাম রাফাকে মুন্সীগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে এনে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করেন প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় (২৩)। হত্যার কাজে ব্যবহৃত পিস্তলটি তৌহিদ গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন রাজধানীর ওয়ারি থানা থেকে লুট করেন। পরে ইউটিউবে ভিডিও দেখে তিনি পিস্তল চালানো শিখেন।
ঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ আদালতে হাজির করলেন আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুলফিকার হোসাইন রনির কাছে আসামি তৌহিদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তৌহিদের বরাদ দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের উপ পরিদর্শক মো. ইয়াসিন।
ডিবির তদন্তকারী কর্মকতা মো. ইয়াসিন বলেন, তন্ময়ের বিরুদ্ধে মোট ৩টি মামলা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি কেরাণীগঞ্জ ডোবা থেকে উদ্ধারের ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া ওয়ারি থানা থেকে অস্ত্র লুটের ঘটনায় ওই থানায় দায়েরকৃত মামলায় তাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জে গুলি করে শাহিদাকে হত্যা করার ঘটনায় অপর একটি মামলাসহ সব মিলিয়ে ৩টি মামলার আসামি সে। হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি তৌহিদ গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন রাজধানীর ওয়ারি থানা থেকে লুট করেন। পূর্বে অস্ত্র চালানোর অভিজ্ঞা না থাকায় সে ইউটিউবে ভিডিও দেখে পিস্তল চালানো শিখেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, টিকটকে পরিচয় হয় শাহিদার সঙ্গে তৌহিদের। ৪ বছর চুটিয়ে প্রেম করলেও প্রেমিক তৌহিদ শাহিদাকে বিয়ে করতে চায়নি। সে বিয়ে করতে চেয়ে ছিল পরিবারের ইচ্ছায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। একটি দুইটি নয়, প্রকাশ্যে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ওপর ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে হত্যার পর ভোলার মনপুরা দ্বীপে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে আলোচিত শাহিদা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি তৌহিদ।
গত সোমবার ভোরে ভোলার তারানগর ইউনিয়নের ইলিশঘাটে ঢাকা-মনপুরা রুটের লঞ্চ থেকে তন্ময়কে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তার দেওয়া তথ্যে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বটতলী বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরকারি সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এসব তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.