
আরও ৩০টির বেশি দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশগুলোর নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না।
সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকার দেন নোয়েম, যা সম্প্রচার হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। সেখানে নোয়েম বলেন, আমি কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বলব না কিন্তু ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ৩০টির বেশি দেশ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিজে নিয়মিত এ দেশগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করছেন।
নোয়েমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সংখ্যা ট্রাম্প প্রশাসন ৩২-এ উন্নীত করবে কিনা। তার জবাবে এই উত্তর দিয়েছেন নোয়েম। সাক্ষাৎকারে নোয়েম অবশ্য কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘যদি কোনো দেশ একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে না পারে, যদি কোনো দেশ আমাদের কিংবা অন্য কারও সহায়তা ব্যতীত টিকে থাকতে না পারেন, সেক্ষেত্রে সেসব দেশের নাগরিকদের কী কারণে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেব? আমাদের নাগরিকরাই বা কেন সেসব দেশে যাবে?’
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে এক আফগান শরণার্থীর গুলিতে নিহত হন যুক্তরাষ্ট্রের আধাসামরিক বাহিনী ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য। এই ঘটনার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ১৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই ১৯টি দেশ হলো- আফগানিস্তান, মিয়ানমার, বুরুন্ডি, শাদ, কিউবা, রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন।
গত মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন আবেদন স্থগিত করেছে। এসব বিদেশি নাগরিক ইতোমধ্যেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ওই সব দেশের নাগরিকদের জন্য গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকরণও স্থগিত করা হয়েছে।
শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ কমাল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গতকাল বৃহস্পতিবার শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং অন্যান্য অভিবাসীদের জন্য কাজের অনুমতির মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ মাস করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস)-এর পরিচালক জোসেফ এডলো কাজের অনুমতির এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে গত নভেম্বরের ২৬ তারিখের গুলি চালানোর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এডলো বলেন, ‘অনুমতির সর্বোচ্চ বৈধতার সময়কাল কমানো নিশ্চিত করবে যে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য আসা ব্যক্তিরা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর ওই হামলার পর, আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ইউএসসিআইএসকে বিদেশিদের নিয়মিত যাচাই প্রক্রিয়া চালাতে হবে। ওই ঘটনায় হামলাকারী একজন বিদেশি এবং তিনি পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে এ দেশে প্রবেশ করেন।’
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.