
ঢাকাই ছবির যুবরাজ আসলাম তালুকদার ওরফে নায়ক মান্নার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৮ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কোটি ভক্তকে কঁাঁদিয়ে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। মৃত্যুর দেড় যুগের বেশি সময়ের পরেও ব্যাপক জনপ্রিয় মান্না। তার অভিনীত ছবির সামনে আজও মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায় ভক্ত-অনুরাগীদের।
ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক সোহেল রানা সম্প্রতি কথা বলেছেন মান্নাকে নিয়ে। তিনি বলেন- চলচ্চিত্র অঙ্গনে মান্নার নিজস্ব একটা ভাষা ছিল। টাঙ্গাইল তথা ময়মনসিংহ অঞ্চলের রেশ ছিল তার কথায়। এ ভাষা মান্নার কণ্ঠে মানিয়ে যেত। এটা দর্শক পছন্দ করতেন। যেটা অন্য কারও ছিল না। পুরো দেশেই সে তার ভাষাকে পপুলার করেছে। এমন ঘটনা ঢালিউডে খুবই কম। মান্নার অভিনয়টা ছিল সব সময়ই ভিন্ন। অভিনয়ের দক্ষতা তার মধ্যে যেমন ছিল, তেমনি যেকোনো চরিত্রে সহজে মানিয়ে যেতেন। দর্শকদের তিনি কবজায় রাখতে পারতেন। মান্না যখন ছিলেন, তখন দর্শকেরা শুধু মান্নার কথা বলতেন। মান্নার বিপরীতে কেউ কথা বলতেন না।’
১৯৮৪ সালে বিএফডিসি আয়োজিত ‘নতুন মুখের সন্ধানে’র মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় মান্নার। তার অভিনীত প্রথম ছবি ‘তওবা’ (১৯৮৪)। এর পর একে একে প্রায় সাড়ে তিনশ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। মান্না অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘পাগলি’। ১৯৯১ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘কাসেম মালার প্রেম’ ছবিতে প্রথম একক নায়ক হিসেবে কাজ করেন মান্না। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সাফল্য পাওয়ার পর মান্নাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। অ্যাকশন হিরো হিসেবে তুমুল দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া মান্না রোমান্টিক ধাঁচের ছবিতেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন বারবার। এর পর খ্যাতিমান নির্মাতা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দাঙ্গা’ ও ‘ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে একক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান মান্না। পর্যায়ক্রমে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘অন্ধ প্রেম’, মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘প্রেম দিওয়ানা’, ‘ডিসকো ড্যান্সার’, কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দেশদ্রোহী’ ছবিগুলোর মাধ্যমে দেশের অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় তারকাতে পরিণত হন মান্না। প্রযোজক হিসেবেও মান্না বেশ সফল ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠান থেকে যত ছবি প্রযোজনা করেছেন, প্রতিটি ছবি ব্যবসাসফল হয়েছিল। ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘লুটতরাজ’, ‘লাল বাদশা’, ‘আব্বাজান’, ‘স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘দুই বধূ এক স্বামী’, ‘মনের সাথে যুদ্ধ’, ‘মান্না ভাই’, ও ‘পিতা-মাতার আমানত’।
মান্নার জীবনকাহিনি নিয়ে সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা আছে তার স্ত্রী শেলী মান্নার। শেলী বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই মান্নার জীবন নিয়ে সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করছি। ইতোমধ্যে একটা রাফ চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা অপেক্ষা করছি আদালতের রায়ের জন্য। যেহেতু তার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাই শেষটা জানার অপেক্ষায় আছি। শেষটা জানা গেলেই সম্পূর্ণ হবে চিত্রনাট্য, তৈরি করতে পারব একটা কমপ্লিট সিনেমা।’ মৃত্যুর প্রায় দেড় যুগ হয়ে গেলেও মান্না আজও বেঁচে আছেন সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে। প্রতিবছরের মতো এবারও তার পরিবার ও ভক্তরা দোয়া ও মিলাদের আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করবেন মান্নাকে। শেলী মান্না বলেন, ‘মৃত্যুবার্ষিকী তো বেদনাদায়ক ব্যাপার। এখানে উৎসবের কোনো বিষয় নেই। প্রতিবছরের মতো এবারও পারিবারিকভাবে দোয়ার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া সারাদেশে তার ভক্তরাও মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করবে।’
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.