সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রভাব খাটিয়ে শূন্য থেকে কোটি টাকার মালিক হওয়া ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে উপজেলা ‘দলিল লেখক’ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। জানা গেছে সাবেক এমপি তানভীর ইমামের নির্দেশে ভুয়া সমিতি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি।
দলিল লেখক সুত্রে জানা যায়,আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ভুয়া সমিতি করে প্রতি মাসে ২২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করতো সমিতির সভাপতি শাহাদত হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। সেই টাকার ভাগ বাটোয়ারায় ছিলেন সাবেক এমপি তানভীর ইমাম ১০ লাখ টাকা ও তার ড্রাইভার ৩০ হাজার টাকা,সভাপতি শাহাদত হোসেন আড়াই লাখ টাকা, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম আড়াই লাখ, উল্লাপাড়া মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ১ লাখ ও তার ড্রাইভার ১০ হাজার টাকা,আর অবশিষ্ট টাকা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের দিয়ে এই ভুয়া সমিতি পরিচলনা করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায় গেছে।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া পশ্চিমপাড়ায়। সাবেক এমপি তানভীর ইমামের আর্শীবাদ পুষ্ট হয়ে এলাকাতেও গড়ে তুলেছেন ত্রাসের রাজত্ব। চাঁদাবাজি ভূমি দখল সহ এমন কোন অপকর্ম নাই যে তার দ্বারা হয়নি। এলাকার মানুষ মুখ খুলতে ভয় পেতেন। তবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর তার সব অপকর্ম আস্তে আস্তে বেড়িয়ে আসছে। বর্তমানে তার নিজ গ্রামে রয়েছে আলিশান তিনটি বাড়ি। এছাড়া নামে-বেনামে রয়েছে অডেল সম্পত্তি। তার এই অনিয়ম-দুর্নীতি করে অবৈধ সম্পদের সঠিক তথ্য অনুসন্ধানের দাবি এলাকার সচেতন মহলের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোয়ালিয়া গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, চাঁদাবাজি ভূমি দখল সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় সহ সকল কাজই করতেন এই জাহাঙ্গীর আলম। এলাকায় অসহায় মানুষদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাই ছিলো তার প্রধান কাজ। বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর নিজেকে রক্ষার সার্থে স্থানীয় বিভিন্ন বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সক্ষতা তৈরি করছেন।
তবে তার এই সকল অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমকে তার মুঠোফোন একাধিক বার ফোন দিয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

