প্রভাতের আচ্ছাদনের ওপারে,
যেখানে আলোরও নাম লুপ্ত হয়, ছায়ারও অধিকার নেই—
সেখানে নীরব দীপশিখার মতো জ্বলে
তিনশো তেরো সত্তা—
নামহীন, বন্ধনহীন, তবু বিধানের প্রহরী।
সেই পবিত্র প্রাঙ্গণে পদধ্বনি ওঠে না,
বাতাসও নড়ে না তাদের নিস্তব্ধ সিদ্ধান্তে;
তবু আমাদের জীবনের প্রতিটি ঝড়
সেখানে আগে ফিসফিসিয়ে জন্ম নেয়।
যাকে আমরা বলি আকস্মিক, ভাগ্যের হঠাৎ বাঁক,
আনন্দের উত্থান, অথবা মৃত্যুর অবতরণ—
সবই যেন সেই নিঃশব্দ ইচ্ছার প্রতিধ্বনি,
যা নিঃশ্বাস হয়ে মিশে যায় আমাদের প্রাণে।
আমরা চলি যেন পৃথিবীর অধিপতি,
অস্থির হাতে ধরি ক্ষণিক ক্ষমতার মোহ;
জানি না—আমাদের প্রতিটি উচ্চারিত সিদ্ধান্ত
নির্ধারিত হয়েছিল সেই অদৃশ্য ক্ষণে।
নদী নিজ ইচ্ছায় বাঁক নেয় না,
বীজ জাগে না নিজের আর্তিতে;
সাঁঝের আলোয় কাঁপা প্রতিটি পাতা
নতমস্তক অচিন নিয়তির কাছে।
হে মানুষ, গর্বিত স্বপ্নের অধিকারী,
তোমার মুকুট রাখো অনন্তের সাগরতীরে—
তুমি কেবল এই লীলার দর্শক,
না এর বিধাতা, না এর অধিকারী।
যে পাণ্ডুলিপি রচিত হয় অদৃশ্য স্থানে,
যে রায় সিলমোহর পায় নীরবতায়—
তারই প্রতিফলন নেমে আসে এই ক্ষণভঙ্গুর ধরায়,
যা কোনো মানবহাতে বদলায় না।
অতএব বিস্ময়ে দাঁড়াও, আদেশে নয়—
অহংকার নয়, জাগুক অন্তরে শ্রদ্ধা;
কারণ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি স্পন্দন
উৎসারিত সেই গোপন হৃদয়ের ইচ্ছায়।
——————————————
সৈয়দ ল. আলী বাহরাম
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস
⸻
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.