সত্য সমাচার ডেস্ক:
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘাড়ে ব্যথা, শক্তভাব বা নড়াচড়ায় অস্বস্তি- অনেকেরই এ ধরনের সমস্যা হয়। আমরা প্রায়ই এর জন্য বালিশকে দায়ী করি না। অথচ ঘুমানোর সময় মাথার নিচে দুই-তিনটি বা তার বেশি বালিশ ব্যবহার করলে ঘাড় দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকতে পারে। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড়ে ব্যথা দেখা দিতে পারে। তবে এখানে শুধু বালিশের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়; মূল বিষয় হলো বালিশের উচ্চতা আপনার মাথা, ঘাড় ও মেরুদণ্ডকে কতটা স্বাভাবিক বা নিরপেক্ষ অবস্থানে রাখছে।
আমাদের ঘাড়ের মেরুদণ্ড বা সার্ভিক্যাল স্পাইন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো। বালিশ অতিরিক্ত উঁচু হলে মাথা সামনের বা নিচের দিকে বেশি ঝুঁকে যেতে পারে। ফলে ঘাড়ের বিভিন্ন পেশি ও জয়েন্টকে দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হয়। বিশেষ করে কাত হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মোটা বালিশ মাথাকে শরীরের তুলনায় বেশি ওপরে তুলে দেয়, যা ঘাড়ের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন করে একপাশে বেশি চাপ তৈরি করে। অতিরিক্ত উঁচু বালিশের সম্ভাব্য সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘাড় অতিরিক্ত বাঁকা হয়ে যাওয়া, পেশিতে দীর্ঘস্থায়ী টান, জয়েন্ট ও ডিস্কের ওপর চাপের ধরন পরিবর্তিত হওয়া এবং সকালে ঘাড় শক্ত লাগা বা ঘোরাতে অস্বস্তি হওয়া। সকালে ঘাড়ে ব্যথা বা শক্তভাব অনুভূত হলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে জোরে ঘাড় ঘোরান বা অতিরিক্ত স্ট্রেচিং করেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে এটি উপকারী নয়। যদি প্রতিদিন ঘুমানোর সময় ঘাড় কয়েক ঘণ্টা অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকে, তবে শুধু সকালে ব্যথার জায়গায় চিকিৎসা না করে ঘুমানোর অবস্থান ও বালিশের ব্যবহার পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। ব্যথামুক্ত সীমার মধ্যে ধীরে ঘাড় নাড়াচাড়া করা যেতে পারে, তবে ব্যথা বাড়ে এমন জোরালো নড়াচড়া এড়িয়ে চলা উচিত।
ঘাড়ের সুরক্ষায় তিনটি সহজ করণীয় অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমত, বালিশের উচ্চতা পরীক্ষা করুন। কাত হয়ে শোয়ার সময় মাথা যেন শরীরের তুলনায় অতিরিক্ত ওপরে উঠে না যায় বা নেমে না যায়। সবার জন্য একই উচ্চতা উপযুক্ত নয়; শরীরের গঠন, কাঁধের প্রস্থ ও গদির দৃঢ?তা অনুযায়ী বালিশ নির্বাচন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যথা কমাতে সকালে অতিরিক্ত স্ট্রেচিং করা থেকে বিরত থাকুন। বরং ধীরে ধীরে ঘাড় নাড়াচাড়া করুন এবং বালিশ বা ঘুমানোর অবস্থান পরিবর্তনের পর উপসর্গ কমছে কি না লক্ষ করুন। তৃতীয়ত, রাতের ঘুমের মেকানিক্স ঠিক করুন। গদি এবং মাথা-ঘাড়ের অবস্থান খেয়াল রেখে কাঁধ ও মাথার মধ্যকার ফাঁকা স্থান পূরণ করার মতো বালিশ ব্যবহার করুন।
অনেকেই মনে করেন ঘাড়ের ব্যথা সারাতে বিশেষ বা দামি অর্থোপেডিক বালিশই একমাত্র সমাধান। আসলে আপনার শরীরের গঠন, ঘুমানোর ভঙ্গি ও গদির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাথা ও ঘাড়কে আরামদায়ক অবস্থানে রাখতে পারে এমন যে কোনো সঠিক উচ্চতা ও সাপোর্টের বালিশই কার্যকর। তবে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তীব্র ঘাড়ের ব্যথা হলে, কিংবা ব্যথার সঙ্গে হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি, অবশভাব, দুর্বলতা বা অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আপনার বালিশ শুধু আরামের উপকরণ নয়; এটি আপনার ঘাড় ও মেরুদণ্ডের যান্ত্রিক পরিবেশের অংশ। তাই সঠিক উচ্চতার ও পর্যাপ্ত সাপোর্টযুক্ত বালিশ ব্যবহার করে ঘুমানোর সময় ঘাড়কে স্বাভাবিক অবস্থানে রাখুন। কারণ সুস্থ ঘুমের জন্য কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন, তার চেয়ে কীভাবে ঘুমাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.