সত্য সমাচার ডিজিটাল
০১ ডিসেম্বর ২০২৫,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে খুলনায় প্রার্থীরা এখন মাঠে। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা। নিজ দলের ব্যানার নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁরা ভোটারের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। জানাচ্ছেন উন্নয়ন, সেবা ও পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি। খুলনার সাধারণ ভোটাররাও এবার ভোট দেবেন অঙ্ক কষে। কে কতটা যোগ্য, কে এলাকাবাসীর জন্য কাজ করেছেন, কে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বেশি বাস্তবসম্মত- এসব বিচারেই গোপন ব্যালটের সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এবার ভিন্ন পথে হাঁটছেন। কোনো দলের অন্ধ অনুসারী না হয়ে নিজেরা হিসাব-নিকাশ করে প্রার্থী বেছে নেবেন বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
খুলনা-১ : বিএনপি এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে পাঁচ থেকে ছয়জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন কুদরত ই আমির এজাজ খান, পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে জিয়াউর রহমান পাপুলের নামও। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শেখ আবু ইউসুফ বলেন, নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আলহাজ মাওলানা আবু সাঈদ বলেন, এলাকার মানুষের জন্য সারাজীবন কাজ করেছি। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছি।
খুলনা-২ : এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এলাকায় তাঁর বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই নেতা বলেন, মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে মাঠে কাজ করছি। বিজয়ী হলে তরুণ সমাজের বেকারত্ব দূর করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, দিনের ভোট রাতে হওয়ায় দেশের মানুষ ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যের কারণে মানুষ দিশাহারা।
খুলনা-৩ : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম, আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছে। এখন তাঁরা জেগে উঠেছে এবং তাঁদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খুলনা মহানগরী আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। তিনি জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।
খুলনা-৪ : বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। সাবেক এ ছাত্রনেতা দিনরাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাঁর বক্তব্যÑ রাজনীতি মানে মানুষের সুবিধা বাড়ানো, কষ্ট দেওয়া নয়। বিএনপি পরিবর্তনের রাজনীতি চায়। ইসলামী আন্দোলনের খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান বলেন, একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন জাতির সঙ্গে তামাশার শামিল। তাঁকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ইসলামী আন্দোলন থেকে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম।
খুলনা-৫ : এই আসনের বিএনপি প্রার্থী আলী আজগর লবী। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে ৪১ শতাংশ ভোটার হিন্দু। এটাই জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হবে। আমি আশাবাদী, তাঁদের সমর্থন আমি পাব। জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
খুলনা-৬ : বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, নির্বাচনে জয়লাভের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, আলোচনার বাইরে থেকেও হঠাৎ মনোনয়ন পাওয়ায় বাপ্পীকে দলীয় নেতাকর্মীরা চমক হিসেবে দেখছেন। জামায়াতে ইসলামী থেকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আবুল কালাম আজাদকে।
এদিকে ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এবার হিসাব কষে ভোট দেবেন। কোনো মার্কা বা দলের প্রার্থীর বিবেচনা করা হবে না। যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।
রিকশাচালক আইয়ুব আলী খুলনা-২ আসনের প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘আমি খুলনা-২ আসনের ভোটার, নিরালায় থাকি। নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে হাজির হন; কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে তাঁদের দেখা মেলে না। কোনো প্রয়োজনে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নানা ধাপ পার হওয়া খুবই কষ্টকর। কিন্তু আমাদের সুখ-দুঃখে অতীতে যাঁরা পাশে ছিলেন, এবার আমরা তাঁদেরই ভোট দেব।
অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, শান্তির নগরী খুলনা এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অশান্ত হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি প্রতিদিনই বাড়ছে, কিন্তু এ অবস্থার উন্নয়নে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে না। ৫ আগস্টের পর একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। আগের নির্বাচনে নিজের ভোট দিতে না পারায় এখনও ক্ষুব্ধ। তবে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি ভালো থাকলে এবার অবশ্যই ভোট দিতে যাব।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.